নীচে সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হল । এটি পড়ে প্রদত্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :
কালচিনি; নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ গাড়ির যাতায়াত নেই পার্বত্য গ্রামগুলিতে । কেউ অসুস্থ হলে স্ট্রেচার বা ‘পালকি অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে, কাঁধে-করে পাহাড়ি পথ বেয়ে নামিয়ে আনা হয় সমতলে । তার পরে সড়কপথে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে ।’
কিন্তু একনাগাড়ে বৃষ্টিতে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে সেই পথ । গোটা রাস্তা জুড়ে বড়-বড় পাথরের চাঙর আর গর্ত । এই অবস্থায় বন দফতরের কাছে বক্সা পাহাড়ের ভিউ পয়েন্ট থেকে সদর বাজার পর্যন্ত রাস্তা তৈরির আবেদন জানালেন যৌথ বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যরা ।
২০২১ সালে প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সংগঠন ‘ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশনের’ সহযোগিতায় এই পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য দেওয়া হয়েছিল পালকি অ্যাম্বুল্যান্স । অভিযোগ, শুরুর দিকে এই পালকি অ্যাম্বুল্যান্সের ওজন বেশি থাকায় রোগীকে কাঁধে করে নীচে নামিয়ে আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল । পরে সেই অ্যাম্বুল্যান্সের ওজন কমিয়ে ৪০ কেজির কাছাকাছি করা হয় । কিন্তু যাতায়াতের রাস্তা সংকীর্ণ ও বেহাল হওয়ায় তার পরেও রোগীদের সমতলে নামিয়ে আনতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের । বাসিন্দাদের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে গত বছর জেলা প্রশাসনের তরফে বক্সার জিরো পয়েন্ট থেকে ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা তৈরি করা হয় । কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই রাস্তা প্রায় মুছে গিয়েছে । এ বিষয়ে রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সোনাম ডুকপা বলেন, “বন দফতরের অনুমতি না মেলায় কংক্রিটের রাস্তা তৈরি হয়নি । সে কারণেই বৃষ্টিতে রাস্তা ধুয়ে গিয়েছে । গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শীঘ্রই সেখানে রাস্তায় সংস্কার কাজ শুরু হবে ।”
বক্সাদুয়ার যৌথ বনসুরক্ষা কমিটির সভাপতি ইন্দ্র শংকর থাপা বলেন, “প্রথম পর্যায়ে এই ৩০০ মিটার সড়ক তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের । এ বিষয়ে মৌখিক ভাবে বন দফতরকে জানালেও শীঘ্রই লিখিত ভাবে আবেদন করব । আশা করছি তারা আমাদের এই আর্জি মানবেন ।” এ বিষয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের এডি.এফ.ও. (পূর্ব) পরিজিৎ বসু বলেন, “এখনও লিখিত ভাবে আবেদন পাইনি । পেলে নিশ্চয়ই গুরুত্ব সহকারে দেখব ।”
Comments